ইনিংসের ১৩-তম ওভারে বল করছিলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই, স্লিপে ফিল্ডার রেখে। অথচ ওয়ানডেতে প্রথম দশ ওভারের পর স্লিপ সরিয়ে নেন সব অধিনায়কই। অবশ্য এই দৃশ্য ছাপিয়ে গেছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের শেষ দিকের ফিল্ড প্লেসিংকে। ২৪ তম ওভারে রশিদ খান বল করেছেন দুটো স্লিপ আর একটা লেগ স্লিপ নিয়ে। এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই স্বাক্ষী, ১৯১ রান তাড়া করতে নেমে ১০৯ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের ওপর আফগানদের দাপটের। ৮১ রানের এই পরাজয়েএক ম্যাচ আগেই লেখা হয়ে গেল বাংলাদেশের সিরিজ হারের গল্প।
ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে ৫০ ওভারও খেলতে না পারা বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ইনিংসের ১২৬ বল বাকি থাকতেই। আগের ম্যাচে চাপে ফেলেছিল ডট বল, এই ম্যাচে ন্যুনতম লড়াই বা লড়াইয়ের মানসিকতাও দেখাতে পারলেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। রশিদ খানের গুগলির জালে ফেঁসে সব মিলিয়ে চলতি বছর টানা তৃতীয় সিরিজ হারল বাংলাদেশ।
এই রশিদ যেন বাংলাদেশের কাছে অমীমাংসিত এক ধাঁধা। অবশ্য শুধু বাংলাদেশ কেন, আধুনিক ক্রিকেটের সকল ব্যাটারই জানেন, রশিদ প্রতি ওভারের ছয় বলে অন্তত তিনটা ডেলিভারি গুগলি করবেনই। তার জন্য আলাদা করে প্রস্তুতিও নেন অনেকে। বাংলাদেশি ব্যাটাররাও নিয়েছেন নিশ্চয়ই, তবে সেটা আদর্শ হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। নইলে কেন রশিদের গুগলির জালে এভাবে ফেঁসে যাবে বাংলাদেশ। কতটা ভয়ংকর ছিলেন এই লেগ স্পিনার? একটা সময় মনে হচ্ছিল ১০০ রানও তুলতে পারবে না বাংলাদেশ। অবশ্য সেই লজ্জা থেকে মুক্তি পেলেও আফগানদের বিপক্ষে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহে গুটিয়ে যাওয়ার হতাশা থেকে বাঁচতে পারেননি মিরাজরা।
পাওয়ারপ্লের পর বোলিংয়ে এসেছেন রশিদ, তাওহিদ হৃদয়কে বোল্ড করে শুরু। আউট হওয়ার আগে ৩৩টা বল খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তিনি জানতেন রশিদ গুগলিই করবেন, তবুও তাকে চালিয়ে স্লগ সুইপ খেলতে এরপর টানা দুই গুগলিতে ফিরিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও তানজিমকে। হ্যাটট্রিকটাও পেয়ে যেতেন যদি রিশাদ হোসেনের পায়ে লাগা আরেকটা গুগলি কোনোভাবে স্টাম্পে ক্লিপ করত। রিভিউ নিয়ে অবশ্য বেঁচে যান রিশাদ, হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হন রশিদ। তবে এরপর আরো দুই উইকেট নিয়ে বোলিং শেষ করেছেন ৮.৩-২-১৭-৫ নিয়ে।
আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট শুরুতে পেস ফ্রেন্ডলি থাকলেও ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়ার সাথে সাথে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে ব্যাটারদের জন্য দুর্বোধ্য নয় একেবারেই। অবশ্য বাংলাদেশি ব্যাটাররা সেসবের ধার ধারেননি। আধুনিক ওয়ানডে যেখানে আদর্শ পরিকল্পনার খেলা, সেখানে টপ থেকে মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা আউট হয়েছেন দিশাহীন হয়ে। প্রথম চার উইকেটের তিনটাই তারা দিয়েছেন ওমরজাইকে। কেবল নাজমুল হোসেন শান্ত হয়েছেন রান আউট।
তানজিদ হাসান তামিম শরীরের বাইরের বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন ফাইন লেগে। ২২ রানের ইনিংসে সাইফ হাসান যা একটু পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন। অধিনায়ক মিরাজ যেভাবে বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হয়েছেন, তাতে প্রশ্ন উঠে যায় তার গেইম সেন্স নিয়ে। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি তার।
পাঁচ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়া ইব্রাহিম জাদরান উইকেটে ছিলেন শুরু থেকেই। সপ্তম সেঞ্চুরিটা হয়তো পেয়েই যেতেন, যদি বাউন্ডারি লাইনে তার ক্যাচটা ধরার জন্য রিশাদ ছাড়া অন্য কোনো ফিল্ডার থাকতেন। ইনিংসের ৪৪ তম ওভারে মিরাজের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডিপ মিড উইকেটে তুলে মেরেছেন, উচ্চতা কাজে লাগিয়ে রীতিমতো ছোঁ মেরে বলটা নিয়ে আসেন রিশাদ। ১৪০ বল খেলে ৯৫ রানে থামেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ইনিংসে মাত্র তিনটা চার আর একটা ছক্কা। এতেই বোঝা যায়, আফগানদের ইনিংস একাই টেনে এনেছেন তিনি। আপনি স্কোরকার্ডে চোখ বুলালেও ইব্রাহিমের এই ইনিংস ছাড়া কিছু খুঁজে পাবেন না। আফগানদের ১৮০ পেরোনোর অবদান পুরোটাই তার।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামা আফগানদের ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম ধাক্কা দেন সাকিব। রহমানউল্লাহ গুরবাজ পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন জাকের আলীর হাতে। পরে পেয়েছেন ৩০ বলে ২২রান করা মোহাম্মদ নবীর উইকেটও। ইনিংসে ৩ উইকেট নেয়া মিরাজের প্রথম শিকার সেদিকউল্লাহ আতাল। লং অনে তানজিমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর মাঝে মিরাজ নিয়েছেন রশিদের উইকেট। আজমতউল্লাহ ওমরজাই আর গজনফরকে ফিরিয়েছেন রিশাদ। যদিও গজনফরের ২২ রানের ইনিংসই শেষ পর্যন্ত কার্যকরী প্রমাণ হয়েছে।


