অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেওয়ার পর স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের চার উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।
তৃতীয় দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। আগের দিন শতক করা তানজিদ হাসান ও ৮৪ রান করা নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া ভিতকে আরও শক্ত করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যান চারশ’ রানের ওপারে।
মিরাজ শেষ পর্যন্ত করেন ৬৫ রান। শেষ পর্যন্ত ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ; ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশ করেছিল ৪২৭ রান।
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ উইকেটটিও নেন জশ হ্যাজলউড। ডারউইনে দুর্দান্ত বোলিং করা এই পেসার বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তার বোলিং অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরার কিছুটা সুযোগ দিলেও বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড সেই চাপকে অনেকটাই সামলে দেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে শুরুতেই চাপে ফেলেন হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই জেক ওয়েদারাল্ডকে শূন্য রানে বোল্ড করেন। পরে ট্রাভিস হেডকেও ১৭ রানে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে ২ উইকেটে ৩৮ রানে পরিণত করেন তিনি।
তবে এরপর প্রতিরোধ গড়েন স্টিভ স্মিথ ও মারনাস লাবুশেন। স্মিথ ৪৪ এবং লাবুশেন ৩১ রান করে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। লাবুশেনকে ফিরিয়ে দেন তাইজুল ইসলাম, আর স্মিথের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে ১২০ রানে চার উইকেট হারিয়ে আবার চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা স্বস্তি এনে দেন স্বাগতিকদের। গ্রিন ৪৩ এবং ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। তাদের জুটির কারণে অস্ট্রেলিয়া আর কোনো উইকেট হারায়নি। তবু ৫৩ ওভার শেষে ১৬১/৪—স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিডের বিপরীতে এখনো অস্ট্রেলিয়া ৬৭ রানে পিছিয়ে আছে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয়, প্রথম ইনিংসে ২০০-এর চেয়ে বেশি রানে পিছিয়ে থেকে অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের নজির খুবই বিরল। এর আগে তারা ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ ২০৬ রানের প্রথম ইনিংস ঘাটতি পেরিয়ে টেস্ট জিতেছে। এবার ঘাটতি ২২৮।
চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য হবে প্রথমে ঘাটতি মুছে ফেলে বড় লিড নেওয়া। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও ছয় উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করা। ডারউইনে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশের এখন জয়ের স্বপ্ন দেখা কোনো দুঃসাহস নয়।


