লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে তিস্তা নদীর আকস্মিক বন্যায় আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে প্লাবন দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার পানি নেমে যাওয়ার সময় সড়কের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে তিস্তা নদীর পানি আকস্মিকভাবে প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট বেড়ে যায়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড়, আঙ্গোরপোতা, ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়াসহ অন্তত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও রেখে গেছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আকস্মিক এই বন্যায় প্রায় ৫০০ একর রোপা আমনের জমি তলিয়ে গেছে। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ফসলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
পানি নেমে যাওয়ার সময় দহগ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকায় সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিসটিয়ারপাড় থেকে আঙ্গোরপোতা ও পাটগ্রামগামী আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। সেখানে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে।
সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২ হাজার পরিবারের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ এবং গৃহপালিত পশু নিয়ে থাকা পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
দহগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সালাম মিয়া (৪৫) বলেন, ‘সকালে এসে দেখি রাস্তা ভেঙে গেছে। দ্রুত এটি মেরামত না করলে চলাচল করা সম্ভব নয়। ভাঙা রাস্তার পাশ দিয়ে যেতে গেলেও গর্তে পড়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। আমরা খুব বিপদে আছি।’
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, বন্যায় সড়ক ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত লোক পাঠিয়ে সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সড়ক বিভাগ জানিয়েছে।


