জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবার রংপুর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের গেটে পীরগাছা থেকে আসা দুইজন সিনিয়র সিটিজেনকে পাশ ছাড়াই ইফতার মাহফিলের ভেতরে নিয়ে যান মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন। এর প্রতিবাদে তাকে গেটেই মারধর করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। এ সময় জেলা যুবশক্তির সংগঠক রাশেদুজ্জামান রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকেও বেধড়ক পেটায় ছাত্রশক্তির নেতারা। এ নিয়ে প্রথমে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও পরে সে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
পরবর্তীতে ইফতারের পর যুবশক্তির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে প্রবেশ গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আবারও কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে যুবশক্তির সংগঠক রাশেদ, সিয়াম ফকির, আকাশ ইসলাম, মুহিত হাসান মীম, সীমান্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আহতদের প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ, পরে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে রাশেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন।
এ বিষয়ে মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীন সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল পাশ কার্ড ছাড়াও যদি সিনিয়র সিটিজেন অথবা আমাদের কোন শুভাকাঙ্খী আসেন। তাহলে পরিচিতজন সার্টিফাই করলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে। সে হিসেবে আমি প্রবেশ গেটে এসে দেখতে পাই পীরগাছা থেকে দুইজন সিনিয়র সিটিজেন এসেছেন। যারা এনসিপিকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেন। আমি আমার পরিচয়ে তাদেরকে ভেতরে নিয়ে যাই। কিন্তু এরপরই আমাকে মারধর করা হলেও আমি বিষয়টি চেপে যাই।’
কিন্তু একটু দুরে থাকা যুবশক্তির নেতারা দৌড়ে এসে প্রতিবাদ করলে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় তারা যুবশক্তির সংগঠক রাশেদকে ব্যাপক মারে।
ইফতারের পর বিষয়টি মীমাংসা করার কথা থাকলেও ইফতার শেষে যুবশক্তির নেতাকর্মীরা বাইরে যাওয়ার সময় মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বাধা দিলে আবার সংঘর্ষ হয়। এতে অনেকে আহত হন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন আর কোনো উত্তেজনা নেই। বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে।’
রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের এসি নজির আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু ইফতার মাহফিলটি বড় ছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পত্র ছাপানো হয়েছিল। আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কয়েকজন এসেছিলেন। তাদের প্রবেশ করা নিয়ে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের ইফতার বর্জন
ইফতার মাহফিলের শেষ পর্যায়ে এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শেষের পর দোয়া মোনাজাত শুরু করা হলেও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ইফতার সরবরাহ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রায় শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী ইফতার না করেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কিন্তু কোথাও ইফতার ও পানি না পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েন। পরে রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে ইফতারের সময়ের প্রায় আধঘণ্টা পর নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ইফতার করেন সাংবাদিকরা।
রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহবায়ক লিয়াকত আলী বাদল জানান, ‘বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। ইফতারের ব্যবস্থা করার সুযোগ না থাকলে সাংবাদিকদের আগেই সেটা জানিয়ে দিলে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সাংবাদিকদের এভাবে বিব্রত করা ঠিক হয়নি।’


