কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর মোহনা থেকে ট্রলারসহ ছয় রোহিঙ্গা জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
বুধবার সন্ধ্যায় শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকার নাফ নদী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন— মো. আয়াছ, মো. ইয়াছিন, জিয়াউর রহমান, আতাউর হোসেন, কেফায়েত উল্লাহ ও রশিদ উল্লাহ। তারা টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিবন্ধিত বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকে গোপনে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে নদীতে জেলে বা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। ওই ছয়জনও বাংলাদেশি ট্রলার মালিকদের আওতায় নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালিয়া ঘাটের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ বলেন, ‘টেকনাফের আবদুল মতলবের মালিকানাধীন ট্রলার নিয়ে ওই ছয় রোহিঙ্গা জেলে মাছ ধরতে যান। ফেরার পথে সন্ধ্যায় নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্টে তাদের ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে থেমে যায়। তখনই আরাকান আর্মির সদস্যরা এসে ট্রলারসহ ছয়জনকে ধরে নিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন—নদীর ওই অংশে প্রতিনিয়ত আরাকান আর্মি, আরসা, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা থাকে। এতে বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ট্রলারসহ ছয় রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তারা কীভাবে ক্যাম্প থেকে বের হয়ে নদীতে গেল— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানানো হয়েছে।’
গত ২৮ অক্টোবর মিয়ানমারের জলসীমায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরেক ট্রলারসহ সাত বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। এর আগে ২৭ অক্টোবর নাফ নদী থেকে চার জেলেকে ট্রলারসহ ধরে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সূত্রে জানা গেছে—গত আট মাসে নাফ নদী ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩১৭ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২০০ জেলেকে বিজিবির সহায়তায় ফেরত আনা হয়েছে। এখনও অন্তত ১১৭ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।


