ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদের সভার মাধ্যমে ডাকসুর প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাবি উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের জন্য পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি মনোনীত হয়েছেন। যারা সিনেট হতে যাচ্ছেন, তারা হলেন- ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দীন খান এবং সদস্যদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া সাবিকুন্নাহার তামান্না ও পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।

সভা শেষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হলো। শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রশ্ন করবেন, আর আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করব।’
তিনি বলেন ‘এই নির্বাচনে কেউ হারেননি। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। শিগগিরই কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে এবং আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই।’
এই নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় সংসদের মোট ২৮টির মধ্যে ২৩টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৫টির মধ্যে ৪টি জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, আরেকটি জিতেছেন বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ এর প্রার্থী হেমা চাকমা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত ২৩টি সক্রিয় ছাত্রসংগঠনের মধ্যে ছাত্রশিবির ছাড়া অন্য কোনো সংগঠন কেন্দ্রীয় সংসদে কোনো পদেই নির্বাচিত হয়নি।

এ নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী উমামা ফাতেমা ভোটের ফলাফল বর্জন করেন।
গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ সময় আচরণ বিধিলঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন প্যানেলের পক্ষ থেকে।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। পাঁচ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ ভোটের বিপরীতে ১৩ ছাত্র হলে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫ জন।
ডাকসুতে ২৮টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন ১, ০৩৫ জন। সব মিলিয়ে এবার ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হয়।


