নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ব্যাটার কেন উইলিয়ামসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন, এবার সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
২০১০ সালে অভিষেকের পর নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং লাইনআপের মূল স্তম্ভ ছিলেন উইলিয়ামসন। ভারতের বিপক্ষে আহমেদাবাদে নিজের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করে জানান দিয়েছিলেন নিজের জাত। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ১৯ হাজার ৩৪৬ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে ৪৮টি সেঞ্চুরি এবং ছয়টি ডাবল সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তিনি বিদায় নিচ্ছেন।
অধিনায়ক হিসেবে উইলিয়ামসনের রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আট বছর তিনি নিউজিল্যান্ডকে সব ফরম্যাটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার অধিনায়কত্বে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল সময় পার করেছে। ৪০ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ২২টি জয় পেয়েছেন, যা স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের পর নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ওয়ানডেতে ৯১ ম্যাচে ৪৬টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৭৫ ম্যাচে ৩৯টি জয় পেয়েছেন, যা কিউই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ।
উইলিয়ামসনের মুকুটে সবচেয়ে বড় সাফল্যের পালক ছিল ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডের আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। এ ছাড়া, ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে ফাইনাল খেলেছিল কিউইরা, যেখানে তিনি টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন। তার হাত ধরে নিউজিল্যান্ড ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং ২০২২ ও ২০২৩ সালের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টগুলোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।
ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিও কম সমৃদ্ধ নয় তার। ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৯ ও ২০২০ সালে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্যার রিচার্ড হ্যাডলি মেডেল’ জিতেছেন তিনি। ২০১৯ সালে আইসিসি টেস্ট বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন উইলিয়ামসন।
নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার তার বিদায় বেলায় বলেছেন, ‘কেন সবসময় দলকে সবার আগে রেখেছে। আমরা তাকে বিদায় জানাতে পেরে হতাশ হলেও তার সিদ্ধান্তে আনন্দিত। সে একজন অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়, চমৎকার সতীর্থ, দারুণ দলনেতা এবং আমাদের খেলার এক অসাধারণ দূত।’
বিদায়ী বার্তায় উইলিয়ামসন জানান, ‘এই দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। দলে প্রচুর প্রতিভাবান খেলোয়ার আছে এবং নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশেষ কিছু করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে সবার। এই দলটি আমার ভালোবাসার জায়গা, এবং এত দীর্ঘ সময় এর অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’


