চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মূল ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলনের সংস্কৃতি থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ আল-আমীন। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আন্দোলনের পর ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট রুটে চারটি চক্রাকার বাস চালুর আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার রাত ১টায় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) বাস চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘আজ যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবার একটাই দাবি ছিল—ক্যাম্পাসে স্থায়ীভাবে চক্রাকার বাস চালু করতে হবে। রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কেননা তাদের এখন হলে ফিরে যাওয়া উচিত। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে ১ নম্বর গেট রুটে স্থায়ীভাবে চারটি বাস চালুর ব্যবস্থা করেছে। এই বাসগুলো চক্রাকারে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে। তাই এ বিষয় নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করার প্রয়োজন নেই।’
মূল ফটকে তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একটা বাজে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে—কোনো কিছু হলেই ক্যাম্পাসের মূল ফটকে এসে তালা দেওয়া। বহু কষ্টে বিশ্ববিদ্যালয় এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছিল। এই ধরনের সংস্কৃতি ক্যাম্পাসে আবার ফিরে আসুক, আমরা তা চাই না। আমরা আশা করি, যখন-তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেওয়া এবং অবরোধ করার এই সংস্কৃতি থেকে শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে আসবে।’
এদিন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধি করার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চালকদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সিএনজি চলাচল বন্ধ করে দেন চালকরা। এর প্রতিবাদে এবং চক্রাকার বাস চালুর দাবিতে চাকসুর উদ্যোগে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ চার ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির পর রাত ১টার দিকে চবি উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ আল-আমীন আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জিরো পয়েন্ট মোড় থেকে ১ নম্বর গেট রুটে স্থায়ীভাবে চারটি চক্রাকার বাস চালুর আশ্বাস দেন। পরে মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, ‘আমরা রাত সাড়ে ৮টা থেকে সিএনজি সিন্ডিকেটের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং চক্রাকারে বাস সার্ভিস চালুর দাবিতে আন্দোলন করছিলাম। পরে রাত সাড়ে ১২টায় প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নেয়। আমাদের দাবি ছিল ৫টি বাসের। প্রশাসন ৩টি বাস দেওয়ার কথা বললে পরে সমঝোতার ভিত্তিতে ৪টি বাস দিতে রাজি হয়। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেইট থেকে বায়োলজি পর্যন্ত চলবে বাসগুলো।’
চাকসুর অবস্থান কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


