বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি কমানোর আলটিমেটাম

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি কমানোর আলটিমেটাম
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি কমানো, ট্রাস্টি বোর্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেম চালুর দাবিতে সরকারকে তিন দিনের সময়সীমা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) কার্যালয়ে ‘জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে টিউশন ফি নির্ধারণের নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি ক্রেডিটে শিক্ষার প্রকৃত ব্যয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে। অথচ অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কয়েক গুণ বেশি টিউশন ফি নেওয়া হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রতি ক্রেডিটে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শান্ত বলেন, টিউশন ফি নির্ধারণে স্বচ্ছ কাঠামোর অভাবের পাশাপাশি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর তদারকির ঘাটতি রয়েছে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে গত ২১ জুলাই ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। নোটিশের জবাব না পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আলোকে টিউশন ফি নির্ধারণ, ফি আদায়ে অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে রুল জারি করেছেন এবং ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জবাব দিতে বলেছেন।

দ্রুত নির্বাহী পদক্ষেপের দাবি

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগতে পারে। কিন্তু সেই সময়েও শিক্ষার্থীদের বাড়তি টিউশন ফি বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে আদালতের পাশাপাশি নির্বাহী বিভাগের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে দাবি করেন তারা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানান আন্দোলনকারীরা। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবিও জানান তারা।

অভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেমের দাবি

শিক্ষার্থীদের আরেকটি দাবি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন গ্রেডিং সিস্টেম চালু করা। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে একই নম্বর পেয়েও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম সিজিপিএ পান। এতে চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

এ ছাড়া রিটেক কোর্সের জন্য পূর্ণ কোর্স ফি না নিয়ে অর্ধেক ফি নির্ধারণের দাবিও জানান তারা। আন্দোলনকারীরা বলেন, রাষ্ট্রের নানা সংকটের মধ্যেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের ঘোষণা, তিন দিনের মধ্যে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না এলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর