ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের দুই দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই সংগঠন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখার কথা জানিয়েছেন নেতারা।
ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবিরের হল সেক্রেটারিকে চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষ ঘটে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ শান্ত করতে সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনে প্রক্টর অফিসে এক সমঝোতা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ এবং শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী ও সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ দুই সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ রোধে তারা প্রক্টরের সঙ্গে সভা করেছেন। তিনি বলেন, গত ৫ তারিখের ঘটনায় যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয় এবং শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে একাডেমিক কার্যক্রম চালাতে পারে, সে ব্যাপারে ছাত্রদল সহযোগিতা করবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপে ছাত্রদল পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।
শিবিরের সভাপতি বলেন, ঘটনার পর অস্থিরতা দূর করে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে মহড়ার মাধ্যমে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জামায়াত, বিএনপি বা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ সহিংসতা তৈরির চেষ্টা করলে ছাত্রশিবির তা প্রতিরোধ করবে এবং প্রশাসনকে সহায়তা দেবে।
মিরপুর-ইবির সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হক জানান, উভয় পক্ষ সমঝোতায় এসেছে। শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং কেউ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান আশা প্রকাশ করে বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলো শৃঙ্খলা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে এবং ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়তে ভূমিকা রাখবে।


