একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিলের ওপরে শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আইনজীবীরা জানান, ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শেষ হওয়ার পরবর্তী চার সপ্তাহ পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে, আবুল কালাম আযাদ আপিলের আবেদন করেন। আবেদনে বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সদস্য মাওলানা আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। রায় ঘোষণার আগে তিনি পালিয়ে যান। পরে তার অনুপস্থিতিতে বিচার ও রায় হয়। মাওলানা আযাদ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম বিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেশি পরিচিতি পেয়েছিলেন।
গত ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি গ্রহণ করে। শুনানি শেষে মাওলানা আযাদকে আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহ করতে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়কে নির্দেশ দেয় আদালত। রাষ্ট্রপতির পূর্ব আদেশে সাজা স্থগিত থাকায় সেদিন তাকে কারাগারে যেতে হয়নি।
এর আগে, গত বছর মাওলানা আযাদ পলাতক অবস্থা থেকে আত্মপ্রকাশ করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা আযাদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউল আলম। শুনানি শেষে সেদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল থেকে মাওলানা আযাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন, আত্মসমর্পণ করে আপিল ফাইল করার শর্তে। ২২ অক্টোবর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আযাদ আত্মসমর্পণ করেছেন, আদালত আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেছে। তাকে আপিলের জন্য কাগজপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উনি যেভাবে আছেন, থাকবেন।


