বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে বিএনপির দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি দিয়েছেন মো. মুজিবুর রহমান।
সোমবার প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদের উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন তিনি। তার বয়স ৬০ বছর। তিনি ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন, ২০২৫ সালে অবসরে যান।
২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘ওইদিন পয়সার হাট এলাকায় আমরা ৪ থেকে ৫ জন রাত ৮টা হতে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত রণপাহাড়া ডিউটিতে ছিলাম। ডিউটি শেষে আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার সময় থানায় আসি এবং জানতে পারি ২ জন লোক মারা গেছে। আমি অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে বাসায় চলে যাই। ওইদিন বিকালে পরবর্তী ডিউটি জানার জন্য থানায় আসি এবং দেখতে পাই পোস্টমর্টেম শেষে থানায় মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে। অভিভাবকদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ডাকা হয়।’
পরবর্তী সময়ে ফোর্সদের মধ্যে কানাঘুষা শুনতে পাই, পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহর নির্দেশে জসিম ও মাহাবুল ক্রস ফায়ার দিয়েছে।
কয়েকদিন পরে থানার মুন্সি আমাকে বলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যান। আমাকে কোথায় ডিউটি করেছি এবং ঘটনার বিষয়ে কিছু জানি কি না জিজ্ঞাসা করা হলে আমি জানাই, আমি পয়সার হাট এলাকায় ডিউটি করেছি এবং আমি ওই ঘটনার বিষয়ে কোনো কিছু জানি না।
‘আমি জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানাই, আমি কোনো গুলি করিনি বা আমরা ঘটনাস্থলে যাই নাই, আমরা ডিউটি শেষে থানায় আসার পর ঘটনা জানতে পেরেছি। লোকমারফত জানতে পারি যে, টিপু ও মিজান নামে ২ জন মারা গেছে,’ যোগ করেন তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। মামলায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, এহসানউল্লাহ, মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।


