দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট, দারুণ সেই অর্জন তিনি রাঙিয়েছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে। মিরপুর টেস্টের আয়োজন, সম্মাননা আর মাঠের পারফরম্যান্স মিলে ম্যাচটাও ছিল মুশফিক কেন্দ্রিক। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিকের ম্যাচে আলো কেড়েছেন তাইজুল ইসলাম। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে টপকে গেছেন সাকিব আল হাসানকে, একই ম্যাচে ছুঁয়েছেন ২৫০ উইকেটের মাইলস্টোনও। তাইজুলের সাথে হাসান মুরাদের স্পিন জাদুতে ৫০৯ রানের বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা আয়ারল্যান্ড গুটিয়ে গেছে ২৯১ রানে। ২১৭ রানের বড় জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে আইরিশদের হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। মুশফিকও পেলেন দারুণ এক জয় উপহার।
চতুর্থ ইনিংসে রেকর্ড লক্ষ্য তাড়ায় নেমে কার্টিস ক্যাম্ফার ছাড়া কেউই সেভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। ম্যাচ তারা জিততে পারবেন না, সেটা মেনেই নেমেছিলেন ব্যাটিংয়ে। কিন্তু সেশন বাই সেশন যেভাবে ধৈর্য্য নিয়ে ব্যাট করেছেন, তাতে একটা সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটা বুঝি ড্র-ই করে ফেলবে আইরিশরা। রান করার চেয়ে উইকেটে টিকে থাকাই ছিল তার উদ্দেশ্য এবং সেটাতেও দারুণভাবে সফল তিনি। একাই খেলছেন ২৫৯ বল, অপরাজিত ছিলেন ৭১ রানে।
শেষটায় তাকে সঙ্গ দিয়েছেন গাভিন হোয়ে। ১৯১ বলে ৫৪ রানের জুটিতে যেখানে তার অবদানই বেশি। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখা আইরিশদের শেষ দুই ব্যাটারকে টানা দুই বলে আউট করেছেন হাসান মুরাদ। ইনিংসের ১১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন হোয়ে, পরের বলে বোল্ড হয়েছেন ম্যাথু হামফ্রিস।
জয় থেকে ৩৩৩ রানের ব্যবধান রেখে পঞ্চম দিনে খেলতে নামা আইরিশ ব্যাটাররা কেবল হতাশই করেছেন বাংলাদেশের বোলারদের। এমনকি ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার প্রথম সেশনে ২০ মিনিট বেশি খেলানোর পরেও আইরিশদের অল আউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৩০ ওভারের চেয়ে ৬ ওভার বেশি খেলা সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ৮৭ রান তুলে লাঞ্চ ব্রেকে যায় আইরিশরা।
এর আগে দিনের প্রথম ১৩ ওভার পর্যন্ত কোনো উইকেটই তাদের পড়েনি। কার্টিস ক্যাম্ফার আর অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের জুটি মাত্র ২৬ রানের, কিন্তু বল খেলেছেন তারা ১০৫টি। সেই জুটি ভেঙেছেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি ম্যাকব্রাইন তার বলের লাইন মিস করে হয়েছেন এলবিডব্লিউ। রিভিউ নিয়েও হয়নি রক্ষা, তাইজুল হয়ে যান ২৫০ উইকেট নেয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার।
প্রথম ঘণ্টায় একমাত্র সাফল্যের পর জর্ডান নিলের ব্যাটিং ঝড়ও সামাল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ওয়ানডে স্টাইলের ব্যাটিংয়ে ৪৬ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৩০ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে ক্যাম্ফারের সাথে গড়েন ৪৮ রানের জুটি। যদিও সেই জুটি কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
শততম টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাসের ১১তম ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহিমের সামনে সুযোগ ছিল পরের ইনিংসেও সেঞ্চুরি ছোঁয়ার। তবে চার ফিফটিতে ৫০৮ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিন নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয় এই ডানহাতি ব্যাটারকে। পরের ইনিংসে সেঞ্চুরি করলে ছুঁয়ে ফেলতেন রিকি পন্টিংকে, যিনি একমাত্র ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে করেছেন দুই সেঞ্চুরি।
যদিও মুশফিক নয়, ইনিংস ঘোষণার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অপেক্ষা ছিল মুমিনুল হকের সেঞ্চুরির। কিন্তু সেঞ্চুরির দেখা পাননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। লাঞ্চ ব্রেক থেকে ফিরে লেগ স্পিনার গাভিন হোয়ের বলে সিলি মিড অফে কার্টিস ক্যাম্ফারের হাতে ক্যাচ দেয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ৬৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে থেমেছেন ৮৩ রানে। সিলেট টেস্টে করেছিলেন ৮২। এর আগে মুশফিক-লিটনের জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের করা ৪৭৬ রানের জবাবে ২৬৫ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। তাইজুল একাই নেন ৪ উইকেট। ২১১ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ২৯৭ রান যোগ করলে চতুর্থ ইনিংসে পাহাড়সম লক্ষ্য পায় আয়ারল্যান্ড।


