দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় যৌথ বাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুজন চিহ্নিত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লৌহজং উপজেলার মেদেনীমন্ডল ইউনিয়নের যশলদিয়া কান্দিপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নুরুল আমিন বুলেট (৩৭) এবং সুকুমার হাওলাদার (৩৮) নামে দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিল।
গ্রেপ্তার দুজকে তল্লাশি করে একটি ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. টিটি-৩৩ অবৈধ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া, উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কেজি গাঁজা, ৫০ গ্রাম হেরোইন, ৫০ গ্রাম আফিম, ১৪ পিস ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। অভিযানে আরও পাওয়া গেছে আটটি মোবাইল ফোন, দুটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৪ হাজার টাকা।
পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার বুলেট ও সুকুমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা ও মাদক সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা পাওয়া গেছে। পুলিশ তাদের রিমান্ডে এনে আরও তথ্য ও অপরাধচক্রের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আমিন বুলেট এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিল। তার হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন মুখ খুলতে সাহস পেত না। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল।
লৌহজং আর্মি ক্যাম্পের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


