জুলাই জাদুঘর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকারের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকার বলেন, ‘এই জাদুঘর যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাস লিপিবদ্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৬ বছরের নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ এই জাদুঘরে নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, জুলাইযোদ্ধারা জাতির ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন।
১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের অবদান অনন্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ রোডে ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলির স্থিরচিত্র দেখেন।
তারা কোটা আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নথিপত্র, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্ত্বরের স্মৃতি স্মারক, আবরার ফাহাদের স্মৃতি কর্নার এবং ‘আয়নাঘর’ মিনিয়েচার পরিদর্শন করেন।
এ ছাড়া, শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের বানানো সংসদ ভবনের মিনিয়েচার এবং শহীদদের রক্তমাখা পোশাক দেখে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কায়সার কামাল বলেন, এই জাদুঘর ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রতিবিম্ব স্বরূপ।
পরিদর্শন শেষে নিতাই রায় জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষে অথবা আগস্টের শুরুতে জুলাই জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক, কিউরেটর টিমের সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


