‘কেমন ছিল ভাই প্রশ্নটা? ভালো ছিল না?’
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেস কনফারেন্স কক্ষে চেয়ার টেনে বসতে বসতে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নটা করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কোয়াব আয়োজিত বিজয় দিবস প্রীতি ম্যাচের জয়ী অদম্য দলের এই অধিনায়কের জিজ্ঞাসা মূলত ছিল তার প্রতিপক্ষ অপরাজেয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে। যেখানে মিরাজ তার কাছে জানতে চান, ম্যাচ শুরুর আগে কেন তার দলকে ‘কমিটির টিম’ বলেছিলেন?
প্রীতি ম্যাচে মিরাজের অদম্যর কাছে ১৬৬ রান করেও ৭ উইকেটে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন শান্ত। শেষদিকে ম্যাচ সেরা নাইম শেখকে সাথে করে নিয়ে এসে মিরাজ দেখেন তখনও চলছে শান্তর প্রশ্নোত্তর। এরপর সোজা এসে বসলেন সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থানে। তখনই মজার ছলে জানতে চান, ‘ম্যাচ শুরুর আগে আপনি বলেছেন আমরা কমিটির টিম, কেন বলেছেন, সেটা একটু এক্সপ্লেইন করবেন।’
জাতীয় দলের সতীর্থ, বন্ধু ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন পেয়ে শান্তও বেশ রসিকতা করেই উত্তর দিয়েছেন, ‘আপনি আসলে দেরিতে এসেছেন , কিন্তু এটার উত্তর তো আমি দিয়েছি। তারপরেও আপনাকে আমি বলি, গতকালকের যে বিষয়গুলো ছিল সবই তো ফান ছিল। বাট স্টিল আমি স্টিল বিলিভ করি আপনারা কমিটির দল। বাট এটা আসলে ফানের জন্যই ছিল। কমিটির দল একটু তো অ্যাডভান্টেজ পেয়েছে। কী পেয়েছে সেটা নাই বা বলি। বাট ইট ওয়াজ এ গুড ফান আই থিংক।’
এই কথার লড়াইয়ের শুরু মূলত সোমবার থেকে। প্রথমবার ‘হোম অফ ক্রিকেট’-এর প্রেসবক্সে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন শান্ত-মিরাজ দুজনই। সেখানেই প্রীতি ম্যাচ নিয়ে হাসতে হাসতে হুমকি দিয়ে শান্ত বলেন, ‘ ‘খুবই এক্সাইটেড। এমন ম্যাচ খেলার সুযোগ আগে হয়নি। তবে কোনো ছাড়াছাড়ি হবে না, একদম শোয়াই ফেলব। প্রস্তুতি মাঠে দেখতে পাবেন না, সব প্রস্তুতি মুখে মুখে হচ্ছে। মাঠে শোয়াই ফেলতে পারি, না হলে আমরাও শুয়ে যেতে পারি। যেকোনো কিছুই হতে পারে।’
জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের শান্তর দলে খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত কারণে তারা সরে যান। সেই ইস্যুকে পূঁজি করেই মিরাজের দলকে ‘কমিটির টিম’ বলে মজা করেন শান্ত। সাধারণত গ্রাম-গঞ্জ কিংবা মফস্বলের কোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হলে আয়োজকদের দলকে ঘিরে এমন কথা শোনা যায়। যেহেতু আয়োজক কোয়াব, আর মিরাজ ক্রিকেটারদের এই সগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য, তাই দুইয়ে মিলে শান্ত আর সুযোগটা হাতছাড়া করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের কাছেও জানতে চাওয়া হয়, শান্তদের ধরাশায়ী করে কেমন লাগছে তাদের? উত্তরটা সিরিয়াসনেস আর মজার মিশেলেই দিলেন এই অলরাউন্ডার। মিরাজ বলেন, ‘দেখেন, আমি কিন্তু এর আগেও বলেছি যে মুখে না বললে মাঠে খেলাটা ইম্পর্টেন্ট। সো আমি এটা বিশ্বাস করি। মাঠে যদি আমরা পারফর্ম করি, সবাই আপনারা এখন জানেন যে কে কাকে শুইয়েছে। সো এটা একটা ফান ছিল। ও যেটা বলেছে এটা ফান হিসেবেই বলেছে।’
রসিকতা, টিপ্পনীতে মেতে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে দুই দলই কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায়নি। যদিও মিরাজদের অদম্য দলের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় শান্তর অপরাজেয়কে। সেই দিকটাই ফুটে উঠল মিরাজের কথায়, ‘মাঠে আপনি দেখেন যে আমরা দুই টিমই অনেক সিরিয়াস খেলেছি এবং আমরা খুবই ভালো একটা ইনভায়রনমেন্ট পেয়েছি। অবশ্যই এটা ধন্যবাদ দিতে চাই কোয়াবে যারা এটাকে আয়োজন করেছে, আমাদের প্রেসিডেন্ট, মিঠুন ভাই, ইসাম ভাই অনেক কষ্ট করেছেন। আমি দেখেছি কাছ থেকে। এবং ক্রিকেট বোর্ডও আমাদেরকে হেল্প করেছেন। এবং আপনারা যারা আছেন, আপনারাও অনেক হেল্প করেছেন এবং আপনারা অনেক কষ্ট করে এসেছেন এবং আমাদেরকে সাপোর্ট করেছেন, অবশ্যই আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ দিতে চাই।’


