শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কথা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার বিকালে সংসদের শপথ কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পদত্যাগপত্রটি এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এটি রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল মেটাতে গিয়ে স্পিকার জানান, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন। এ ছাড়া তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় রাষ্ট্রপতির ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামে একটি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝেই অচেতন হয়ে পড়েন। এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এ কারণেই মূলত তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি (স্পিকার) বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি, যাতে প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পালন করা যায়।’
তিনি আরও যুক্ত করেন, একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও শপথ নেওয়ার সময় একটি অংশ থাকে, যেখানে বলা হয়, স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকলে ডেপুটি স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করবেন।


