ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ চেয়ে নোটিশ

ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ চেয়ে নোটিশ
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

দেশের বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক দাম ও সরবরাহ সংকটের কথা তুলে ধরে ভারতে ইলিশ রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। তার অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ নিয়ে ভারতীয় আমদানিকারকেরা তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে বেশি দামে পুনঃরপ্তানি করে বিপুল মুনাফা করছেন। এতে বাংলাদেশ সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জনস্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় মাছ ইলিশ বাংলাদেশের মূল্যবান ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ। অথচ দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম বর্তমানে প্রায় দুই হাজার ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকা। নোটিশে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান বিনিময় হারে এই দাম প্রায় ২১ থেকে ২৫ মার্কিন ডলারের সমান। এমন উচ্চমূল্যের কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের পক্ষে ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

কম দামে রপ্তানি, বেশি দামে পুনঃরপ্তানির অভিযোগ

আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে দেশের বাজারে ইলিশের সংকট ও উচ্চমূল্য বিবেচনায় না নিয়ে ভারতে প্রতি কেজি মাত্র ১০ মার্কিন ডলারে ইলিশ রপ্তানির নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। অথচ ভারতের নিজস্ব ইলিশ উৎপাদন রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি বাংলাদেশেও ইলিশ রপ্তানি করেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশদাতার দাবি, ভারতীয় আমদানিকারকেরা বাংলাদেশ থেকে কম দামে ইলিশ নিয়ে তা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ মার্কিন ডলারে পুনঃরপ্তানি করছেন। এভাবে বাংলাদেশের ইলিশ আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীরা বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

এতে আরও বলা হয়েছে, এই পুনঃরপ্তানি কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের মূল্যবান সম্পদ অন্য দেশের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হওয়ায় বাংলাদেশ ন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে না বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির প্রস্তাব

নোটিশে সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আইন মান্য করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। নোটিশদাতার ভাষ্য, সরকার এখনো ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। তবে দেশের ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠেকাতেই আগাম এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রয়োজন থাকলে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে সরাসরি ইলিশ রপ্তানির নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত ইলিশ রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশদাতার মতে, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও খাদ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি উপেক্ষা করে কম দামে ইলিশ রপ্তানি করে অন্য দেশের ব্যবসায়ীদের পুনঃরপ্তানির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

সাত দিনের সময়সীমা

আইনি নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানির যেকোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ, নির্বাহী অনুমোদন বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad