রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনে কেক কাটা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আসামিরা হলেন মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন রানা (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আব্দুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯) ও মো. হাসিব মিয়া (২৩)। তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অপর আসামি ফারজানাকে (২১) এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন মোরশেদ হোসেন শাহিন ও অন্যরা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহিন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে একটি কেক কাটেন ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে কোন ব্যক্তির জন্মদিনে কেক কাটা কোনো অপরাধ নয়। আমরা আদালতে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করি আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ১৪ আসামীর ৩ দিন ও একজন মেয়ে তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘রিমান্ডে যাওয়া এই ১৫ আসামি একত্রিত হয়েছে কেক কাটার জন্য নয় তারা ঢাকার শহরের কোনো জায়গায় মিছিল করবে এবং বোমা নিক্ষেপ করবে সে জন্য। জুলাই আন্দোলনে উত্তরা একটি হট স্পট ছিল সেখানেই তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আনার পরিকল্পনা করছে। আমরা আদালতকে বলি তারা সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাই তাদের ৭ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’
এর আগে গতকাল সোমবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কে সাবেক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রের অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় একটি কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন কমিটির পদপ্রত্যাশী ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত লেখা ২০ পৃষ্ঠা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা কাগজপত্রে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোগো, শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ছিল। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
মামলার রহস্য উদঘাটন, ঘটনার মূলহোতা ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত, অর্থের জোগানদাতাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


