ভারতের পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির নেতা লাকি ওবেরয়কে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জলান্ধারের মডেল টাউন এলাকার গুরুদুয়ারার সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে হত্যা করে এক দুষ্কৃতিকারী।
পুলিশের বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, লাকি ওবেরয় (৩৮) সকালেই গুরুদুয়ারে আসেন এবং প্রার্থনা শেষে নিজের গাড়িতে করে উপাসনালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতীকারী লাকির গাড়ির সামনে এসে খুব কাছ থেকে একের পর এক গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, অন্তত পাঁচটি গুলি লাকির শরীরে আঘাত করেছে। গুলিতে তার গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং পাশের একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লাকি ওবেরয়কে দ্রুত জলান্ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন চিকিৎসকরা।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো হুডি ও মুখোশ পরা এক ব্যক্তি শান্তভাবে লাকির গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে, গুলি চালায় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঞ্জাব পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী একা ছিলেন না। তার সঙ্গে অন্তত একজন সহযোগী কাছেই আরেকটি মোটরসাইকেলে অপেক্ষা করছিলেন।
লাকি ওবেরয় পাঞ্জাবে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির নেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও তিনি পাঞ্জাব বিধানসভার কোনো সদস্য নন। এমনকি দলের ভেতরেও তার পদবী নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী এর আগে আম আদমি পার্টির প্রার্থী হিসেবে পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অবশ্য সে নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।
এদিকে লাকির হত্যাকাণ্ড ঘিরে এরইমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে ভারতের রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে আম আদমি পার্টির নেতা ভগবন্ত মান সরকারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতার তীব্র অভিযোগ এনেছেন। পাঞ্জাব বিধানসভার বিরোধী দলনেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বাজওয়া লেখেন, ‘জলান্ধারের একটি গুরুদুয়ারার বাইরে প্রকাশ্য দিবালোকে এএপি নেতা লাকি ওবেরয়কে হত্যা ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। যদি শাসক দলের নেতারাই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাঞ্জাব আজ ভয়, গ্যাং সহিংসতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, আর সরকার ব্যস্ত কেবল প্রচার আর অজুহাতে।
পাঞ্জাবে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালাও।
শিরোমণি আকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল বলেন, ‘এএপি সরকারের অধীনে পাঞ্জাব “রক্তাক্ত” হয়ে উঠেছে।’ পাঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং অভিযোগ করেন, এএপির শাসনে রাজ্যের কেউই নিরাপদ নয়।’


