প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর কথা বলে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউনে সংরক্ষিত কোটি টাকার উচ্চ শুল্কের ভারতীয় পণ্য পাচারের সময় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বেনাপোল বাজার এলাকায় রোববার রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। এসময় একটি কাভার্ডভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ডভ্যানের চালক মো. মহসিন আলী (৩৪) এবং হেলপার মো. জাহিদ হাসান (২১)।
এ ঘটনায় কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা এবং বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীদের কাছ থেকে জব্দ করা ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য কাস্টমসের গোডাউনে সংরক্ষিত ছিল। সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব পণ্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ত্রাণ তহবিলের পণ্যের আড়ালে উচ্চ শুল্কের বাণিজ্যিক মালামাল গোডাউন থেকে বের করে পাচারের চেষ্টা করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া চালানটিতে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস এবং আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ ছিল। এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
বিজিবি সূত্র জানায়, জব্দকৃত পণ্যগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং কীভাবে সেগুলো কাস্টমসের সংরক্ষিত গোডাউন থেকে বের করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি কাভার্ডভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরে একাধিক অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমসের জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানিকৃত পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগেও তদন্ত চলছে। এর আগে ২৬ নম্বর শেড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়। ফলে নতুন এই ঘটনা বন্দরের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) এবং তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কাস্টমস হাউস জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।


