শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে পাবনায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ‘দূর্জয় পাবনা’ তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। এদিন সকালে সেখানে ফুল দিতে গিয়ে তালাবদ্ধ পেয়ে ক্ষুব্ধ হন সাংবাদিকরা।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীরা জানান, কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা না থাকায় ‘দূর্জয় পাবনার’ তালা খোলা হয়নি।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় পদযাত্রা নিয়ে স্মৃতিসৌধের সামনে যান পাবনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। এ সময় স্মৃতিসৌধের বাইরে ও ভেতরে চারটি তালা ঝুলানো দেখতে পান তারা। এ নিয়ে বিষ্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দূর থেকে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী ওয়াজেদ মিয়া ও আরদালী সুজন মিয়া। সাংবাদিকরা গেটের বাইরে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে গেলে কিছুক্ষণ পর এক ঝোপা তালার চাবি নিয়ে হাজির হন একজন কর্মচারি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ কোনো দিবস আছে সেটা জানা নেই। আর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা আমাকে দেওয়া হয়নি। যে কারণে তালা খোলা হয়নি। এখন খুলে দিচ্ছি, আপনারা ফুল দিয়ে যান।’
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্টাফ ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘এটা আমাদের চেতনার ব্যাপার। বুকে ও মনে ধারণ-লালন করি। আমি নিজেও ছুটে এসেছি। কিন্তু কর্মচারীদের কেন জানানো হয়নি আর খোলা রাখা হয়নি ব্যাপারটা আমার জানা নেই।’
পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন দৃশ্য দেখতে হবে ভাবিনি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে দেশকে মেধাশুন্য করতে বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জাতির সেই সব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি আমাদের চেতনার আজ এই অবস্থা।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা জেলা প্রশাসনের চরম দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতা।’
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা কেমন কথা! তার মানে জেলা প্রশাসন কি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ সেটা জানে না, নাকি জেনে পালন করবে না? এমন কাণ্ডে তীব্র প্রতিবাদ জানালাম।’
পাবনা অন্নদা গোবিন্দা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতীন খান বলেন, ‘সকাল আটটায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যাই দূর্জয় পাবনা স্মৃতিসৌধে। কিন্তু ভিতরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কেন তালা দেওয়া ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি, ভালোও লাগেনি।’
পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই।’ জেলা প্রশাসকের সঙ্গেই কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে কথা বলার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।


