দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে এই অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার এ তথ্য দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার জারিয়াঝাঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর-বাগানে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার তিনটি জেলার সাতটি নদীর আটটি স্টেশনে পানি বর্তমানে প্রাক-বর্ষা বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনা জেলার জারিয়াঝাঞ্জাইলে ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
একই জেলার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো তা বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে জারিয়াঝাঞ্জাইলে ভুগাই-কংস নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে এই নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোনায় মগড়া নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। আটপাড়া পয়েন্টে এই নদীর পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জে কালনী নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সেখানে নদীটি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হবিগঞ্জের সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পয়েন্টে নদীটি বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বর্তমানে নদীর পানি প্রতি ঘণ্টায় শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে ধীরগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।


