ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় সমস্যা, সংকট নিরসনে ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন প্রার্থীরা। এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ ধানের শীষ পেয়েছেন। তবে, বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত মোহাম্মদ ইসহাক সরকার স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হওয়ায় হামিদুর রহমানের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটা জটিল হয়ে উঠেছে।
ফুটবল প্রতীকে ভোটে দাঁড়িয়েছেন ইসহাক সরকার। ধানের শীষের প্রার্থীর পাশাপাশি সমানতালে মাঠ কাপাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় ও ক্লিন ইমেজের হওয়াতে আছে জনপ্রিয়তাও। এ ছাড়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে আছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. এনায়েত উল্লাহ।
এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন (লাঙল প্রতীক), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির শফিকুর রহমান (হাতি), ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ (বটগাছ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মো. শহিদুল ইসলাম (কাঁঠাল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান (ছড়ি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শাহানা সেলিম (তারা) ও বাসদ মার্ক্সবাদীর সীমা দত্ত (কাঁচি)।
আসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, লালবাগ, চকবাজার, বংশাল ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা এলাকা নিয়ে ঢাকা-৭ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৭ জন। পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ ও নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ জন।
ঢাকা ৭ অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের ভোটাররা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসবাজ, মাদকমুক্ত সমাজের প্রত্যাশার কথা বলেন। ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী মাহতাব সর্দ্দার বলেন, ‘যারাই ক্ষমতায় আসুক বা এমপি নির্বাচিত হোক তারা যেন ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও ব্যাবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করে। আমরা শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশ চাই, কোনো হানাহানি চাই না।’ আমরা ব্যবসায়ীরা মূলত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
নয়াবাজারের এক চা-দোকানি বলেন, ‘ভোট চেয়ে তো প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আমরা বুঝেশুনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেব। আমরা আর প্রতারিত হতে চাই না। যাদের কাছে দেশ ভালো থাকবে তাদের ক্ষমতায় দেখতে চাই।’
লালবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার হক বলেন, ‘বাসায় গ্যাস থাকে না। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এবং সারা বছর মশার উপদ্রব থাকে। যারা আমাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে তাদের ভোট দেব। আমরা একটু শান্তি চাই। মারামারি-কাটাকাটি, দখলদারি চায় না।
ইসলামবাগের এক তরুণ ভোটার হোসেন শিক বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার চাই, যারা দেশ ও জাতির কথা ভাববে, কোনো দুর্নীতি বা টাকা পাচার করবে না।’
ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী মো. হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, ‘ভোটারদের ভালো সাড়া পেয়েছি। বিশেষ করে মহিলাদের সাড়া বেশি পাচ্ছি। শতভাগ নিশ্চিত আমি বিজয়ী হবো। বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছি না। গ্যাসের সংকট নিরসন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই।’ কয়েকটা কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষ কোনো অভিযোগ নেই।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লাহ বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ও টেন্ডারবাজমুক্ত একটি সমাজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এতে সাধারণ ভোটাররা ভালো সাড়া দিচ্ছেন। প্রত্যাশা করছি, ভালোবাসার জায়গা থেকে ভোটাররা আমাকে বিজয়ী করবেন।’
তবে ভোট নিয়ে অনেক শঙ্কায় আছি। কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই এলাকাটা চাঁদাবাজদের আস্তানা তারা আমাদের থ্রেট মনে করছে। সকল চাঁদাবাজ একত্র হয়েছে। ঘরে ঘরে গিয়ে থ্রেট দিচ্ছে। তারা মূলত আশঙ্কা করছে তাদের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার বলেন, ‘এই পুরান ঢাকায় আমার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। বিগত দিনে মাঠ ছেড়ে যাইনি, তবে দল আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এই এলাকার জনগণ আমাকে ছাড়েনি। সারা জীবন লড়াই করেছি, কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস করিনি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হব। আমি আশাবাদী।’
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন বলেন, ‘জাতীয় পার্টির আমাদের যে ভোট আছে, সেই ভোট দিয়ে পাস করা যাবে না। এখানে আওয়ামী লীগের ভোটটা অনেক বড় ফ্যাক্টর। গণসংযোগ করে তাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তারা লাঙলে ভোট দিলে পাস করব। আওয়ামী লীগের ভোটের ওপর পাস-ফেল নির্ভর করছে।’
তবে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা অনেক ভয় পাচ্ছে। তারা চিন্তিত যে আসলেই সুষ্ঠু ভোট হবে কি না। কেন্দ্র দখল হবে কি না। অস্ত্রের ঝনঝনাই বাজবে কিনা নির্বাচনে এটাই মুখ্য বিষয়।’


