সম্প্রতি বাণিজ্য উপদেষ্টাকে হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেন দেশের অন্যতম শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী আমিরুল হক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আমিরুল হক বাণিজ্য উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের প্রকাশ্য সভায় হুমকি দিচ্ছেন। গত ১২ অক্টোবর চট্রগ্রামে ব্যবসায়িদের এক সমাবেশে আমিরুল হক উপদেষ্টাদের উদ্দেশ করে বলেন, “এখন ডিবি হারুনের জমানা নেই। তাই কাউকে পরোয়া করি না। যদি উপদেষ্টারা বন্দরে আসেন তবে তাদের প্রতিহত করা হবে। বাণিজ্য উপদেষ্টাকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, “আপনি দুই বছর হয়েছে উপদেষ্টা হয়েছেন। আমি চল্লিশ বছর ধরে এ ব্যবসায়। আমাকে শেখানো এতো সোজা নয়”।
নৌপরিবহণ উপদেষ্টা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যে হাত দিয়ে ট্যারিফ বাড়ানো হবে, সেই হাত ভেঙে দেবো।”
উপদেষ্টাদের উদ্দেশে আমিরুল হক বলেন, কে কার পিছনে আছে আমি সব জানি। কে কোথায় ভিজিট করে সব তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এমন কোন উপদেষ্টা নেই এসব মাড়িয়ে চট্রগ্রাম আসবেন। আপনারা আসবেন, আমি কিন্তু বাধা দেব।”
এই হুমকির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন ।
এমন হুমকির ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে প্রশ্ন উঠেছে: কে এই আমিরুল হক? তার শক্তির উৎস কী?
আমিরুল হক সিকম গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। দেশের পেট্রো কেমিক্যাল, শিপিং, বীজ প্রক্রিয়াকরন ও ভোজ্য তেল শোধনাগার, আটাকল, চিংড়ি, ব্যাগ ও সার উৎপাদন এবং রিয়েল এষ্টেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ শিল্পখাতে অন্তত ২০ টি কোম্পানির মাধ্যমে রয়েছে তার ব্যবসা। একাধিকবার তিনি সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি হন আমিরুল হক। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আমিরুল হককে ইঙ্গিত করে বলেন, ১২০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মাধ্যমে কিছু ব্যবসায়ি শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনেরও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আমিরুল হক। এখন তিনি চট্রগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হওয়ার প্রতিযোগিতায় রয়েছেন।


