বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, মঙ্গলবার ব্যাংককে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) আয়োজিত এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘নামমাত্র জিডিপি বা ভৌগোলিক আয়তনে বাংলাদেশ অনেক পেছনে থাকলেও জনসংখ্যায় এটি বিশ্বের অষ্টম বৃহৎ দেশ।’
‘আমাদের যুব জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। কিন্তু এই বিপুল তরুণসমাজ এখনো অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট ক্ষমতায়ন পায়নি,’ বলেন তিনি।
গত বছরের জুলাই আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘তরুণদের আত্মত্যাগ নতুন পথ সূচনা করেছে। এখন বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। তবে এই উত্তরণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করছে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি এলডিসি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল।’
তিনি বলেন, ‘শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। ওষুধ শিল্পে পেটেন্ট ছাড়ের কারণে দেশীয় চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়েছে। সহজ শর্তে আন্তর্জাতিক অর্থও পাওয়া গেছে। তাই এলডিসি সুবিধা হারানো মানে আমাদের জন্য বড় পরিবর্তন।’
এই প্রেক্ষাপটে তিনি ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—উত্তরণকে অনিবার্য হিসেবে মেনে নেওয়া, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সংস্কার, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ অথবা ইপিএ) করার উদ্যোগ এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ।
তিনি জানান, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি সেখানে নির্দিষ্ট খাতে এক লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তিনি শ্রম সংস্কারকে তুলে ধরেন।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘শ্রম অধিকার রক্ষা এখন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একইসঙ্গে রপ্তানি বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখার জন্যও এটি অপরিহার্য।’
তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে শ্রম মানোন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রমাণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যেই একটি জাতীয় শ্রম সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, যা সংবিধান ও বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে এ প্রক্রিয়া চলছে। ব্যবসায়ী মহলও শ্রম সংস্কারকে সমর্থন করছে, কারণ এটি সরাসরি রপ্তানি সুবিধার সঙ্গে যুক্ত।’
লুৎফে সিদ্দিকী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ‘আইএলওর সঙ্গে রোডম্যাপে নির্ধারিত অধিকাংশ কাজই শিগগির সম্পন্ন হবে।’
তার বক্তব্যের উপসংহারে তিনি তিনটি মূলনীতি তুলে ধরেন—অধিকার, সম্পর্ক ও স্থিতিস্থাপকতা।
‘আমাদের সব কাজে এই তিনটি নীতি মেনে এগোতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।


