গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে চেয়েছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। যিনি বিএনপি থেকে সদ্যই বহিষ্কৃত হয়েছেন।
তবে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ফটকে দাঁড়িয়েই কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের তিন নম্বর ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে জিয়ারত করেন হাবিবুর রহমান। এরপর সেখান থেকেই নিজের নির্বাচনী প্রতীক ফুটবল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।
হাবিবুর রহমান গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় বুধবার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির আরও বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বহিষ্কার করা হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতের পর হাবিবুর রহমান হাবিব টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান এবং নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
এছাড়া তিনি গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত আলেম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবরও জিয়ারত করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছি।’
উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে প্রবেশ করে কবর জিয়ারত করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অতীত প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এক সময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে আমি অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। ফলে আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি সম্পূর্ণ হাস্যকর, কারণ আমি দলে নেই।’
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না; কেবল নিজের স্বার্থেই নির্বাচনে অংশ নেন।
‘কিন্তু আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই, তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই। সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।’


