আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় মোট ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। জেলার ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০০টি কেন্দ্রই এখন প্রশাসনের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ১৯০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাতটি সংসদীয় আসনের মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। এখানকার ৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে গাবতলী উপজেলায় ঝুঁকি সবচেয়ে কম, যেখানে মাত্র একটি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে কাহালুতে ৩১টি, শেরপুরে ৩০টি এবং শিবগঞ্জে ২৬টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান (মিডিয়া), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান এবং জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
তারা জানান, সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ উভয় ধরনের কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনা সদস্য, র্যাব, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হবে। বিশেষ করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ধারণ এবং ভ্রাম্যমাণ টিমের নজরদারি থাকবে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
এবারের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৬৭২ জন। আসনভিত্তিক ভোটার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বগুড়া-১ আসনে মোট ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৬২ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ১৬ হাজার ৩৫৩ জন। বগুড়া-২ আসনে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৩ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ১৩ হাজার ৬১৭ জন। বগুড়া-৩ আসনে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৪০ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ৭ হাজার ১১৩ জন। বগুড়া-৪ আসনে ৩ লাখ ৫৬ হাজার৭১৪ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ১২ হাজার ২০০ জন। বগুড়া-৫ আসনে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬৩ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ২১ হাজার ৯৫ জন। বগুড়া-৬ আসনে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১৫২ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ২১ হাজার ১১০ জন এবং বগুড়া-৭ আসনে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৪ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ১৯ হাজার ৬২৬ জন।
২০২৪ সালের তুলনায় এবার নতুন ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৮ জন, যাদের বড় অংশই তরুণ। এই তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে ‘গেমচেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন নতুন ভোটাররা। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম জানান, তিনি প্রার্থীর শিক্ষাগত ও চারিত্রিক যোগ্যতা দেখে ভোট দেবেন। শাজাহানপুরের মাদ্রাসা ছাত্র মো. আকিবুল এবং সদরের পলিটেকনিক ছাত্র মো. নাহিদ রহমান দেশের কল্যাণ ও সুশাসনের পক্ষে তাদের মত ব্যক্ত করেছেন।
কাহালুর নারী ভোটার সুমাইয়া আক্তার ইতি এলাকার উন্নয়ন ও নারী শিক্ষার প্রসারে কাজ করবেন এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে চান। এছাড়া নন্দীগ্রামের কলেজ ছাত্রী আফিয়া জাহান ও তার সহপাঠীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে জানান, তারা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।


