মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত ‘স্টুডেন্ট গ্রুমিং অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাডপটেশন প্রোগ্রাম’ সম্পন্ন হয়েছে। চার দিন ধরে চলা এই অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম শহিদুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি ফিউচারন্যাশন এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ- এর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং ইতিবাচক মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের এসব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীদের আরও উপযোগী করে গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে যা যা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
চার দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, একাডেমিক পরিবেশ, নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ কৌশল, মানসিক স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং বৈশ্বিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক মনির মোর্শেদ এবং ফিউচারন্যাশন, ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও কাজী কনসালন্টেসি-এর বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনামূলক সেশন পরিচালনা করেন।
শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু জুবাইর, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মুছা মিয়া, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রবিউল ইসলাম লিটন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক কানিজ মরিয়ম, প্রক্টর অধ্যাপক মনির মোর্শেদ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ধরনের উদ্যোগ নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সফলভাবে অভিযোজিত হতে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশে এবং একজন দায়িত্বশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে।


