লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।
লিবিয়ান নিউজ এজেন্সির বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার রাজনৈতিক দলের প্রধান। বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক গাদ্দাফির মৃত্যুর পর সাইফকেই তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
তবে গাদ্দাফি পুত্রের মৃত্যুর স্থান ও বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো গোষ্ঠী হত্যার দায় স্বীকার করেনি।
সাইফের আইনজীবী লিবিয়ান নিউজ এজেন্সিকে বলেন, চার সদস্যের একটি কমান্ডো দল জিনতান শহরে তার বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। হামলাকারীরা দ্রুত অভিযান শেষ করে পালিয়ে যান। তবে এই হামলার পেছনে কারা ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে সাইফের বোন লিবিয়ান টেলিভিশনে এক ঘোষণায় দাবি করেন, জিনতান শহরে নয় বরং আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে সাইফকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ সময়য় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভ্রমণ করছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তার বোন।
লিবিয়ান সরকারও গাদ্দাফি পুত্রকে হত্যার ঘটনার রহস্য এখনো খোলাসা করেনি। তারা জানিয়েছে, হামলার পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।

মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যুর পর সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকেই লিবিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ভীতিকর ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও পরে নিহত হওয়া পর্যন্ত লিবিয়া শাসন করেন।
সাইফ আল-ইসলামের জন্ম ১৯৭২ সালে। তিনি ২০০০ সাল থেকে বাবার সঙ্গে লিবিয়া শাসনে নিয়োজিত ছিলেন। গাদ্দাফির পতন পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সাইফের।
তবে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ‘নিষ্ঠুর ভূমিকা’ পালনের অভিযোগে তাকে জিনতান শহরের একটি সরকারবিরোধী মিলিশিয়া গোষ্ঠী ছয় বছর আটকে রাখে।
তার অনুপস্থিতিতেই ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে চেয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে পশ্চিম লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে অনুপস্থিত দেখিয়েই মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।
অবশ্য দুই বছর পর ২০১৭ সালে, পূর্ব লিবিয়ার তবরুক অঞ্চলের মিলিশিয়া সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় সাইফকে মুক্তি দেয়। এরপর ২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে ও সেই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।


