খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুটি ছাত্রী হলের ক্যানটিনে কোনো পুরুষ কর্মী কাজ করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের বাথরুমে গোপনে ভিডিও করা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত একধিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সকালে এবং দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মো. নূরুন্নবী। বিকালে ঢাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে একাধিকবার বৈঠকে বসেন উপাচার্য মো. রেজাউল করিম।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী মো. ইমাম হাসান ও তার স্ত্রী রুপা মণির বিরুদ্ধে হরিণটানা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
বিকালে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারের পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য হল প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তের পরিচালিত হল ক্যানটিনের বরাদ্দ বাতিল এবং হলের ভেতরে কর্মচারীদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, অপরাজিতা ও বিজয় ’২৪ ছাত্রী হলের ক্যানটিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং এই দুই ছাত্রী হলের ক্যানটিনে কোনো পুরুষ কর্মী কাজ করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছারের যৌন হয়রানির ঘটনায় রিভিউ আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের সাময়িক বহিস্কৃত শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটির দুটি তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।


