প্রিজন ভ্যানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ঘাড়ে আঘাত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
গত রোববারের ওই দুর্ঘটনার জন্য তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিকে চিকিৎসা চেয়ে আদালতে আবেদন করতে বলেছেন তিনি। মঙ্গলবার আদালতে হাজিরার আগে আইনজীবীকে এই কথা বলেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।
জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২১ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এ দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার কারাবন্দী আসামি জুনায়েদ আহমেদ পলক ও সাদেক খানকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ তোলা হয়। এসময় আসামিপক্ষে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
পরে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় পলক তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিকে জানান, প্রিজনভ্যানে কারাগারে যাওয়ার পথে আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি ঘাড়ে আহত পেয়েছেন। এখন তিনি এমআরআই পরীক্ষা করাতে চান। এজন্য আদালতে চিকিৎসা চেয়ে আবেদন করতে পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের জন্য আমাকে আদালতে আবেদন করতে বলেছেন। তবে সময় স্বল্পতায় আজ আবেদন করা হয়নি। আগামীকাল আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করব।’
এর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাক চালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামে দুই ব্যক্তিও। হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় মোসা. রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকরামুজ্জামান ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
শেখ হাসিনা বাদে এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ আরও অনেকে। আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।


