ফিরিয়ে দেওয়া দেহাবশেষ জিম্মিদের নয়, দাবি ইসরায়েলের

ফিরিয়ে দেওয়া দেহাবশেষ জিম্মিদের নয়, দাবি ইসরায়েলের
এক ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করছে হামাস। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

গাজার রেড ক্রসের কাছে হামাস যে তিন জিম্মির দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছে, তাদের কোনোটিই জিম্মিদের নয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

শনিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, তিনটি দেহাবশেষ আইডিএফ-এর (ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী) কাছে হামাস হস্তান্তর করেছে। তবে কোনোটিই জিম্মিদের নয়। এগুলো কাদের দেহাবশেষ তাও পরিষ্কার নয়।

গত শুক্রবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেডক্রসের মাধ্যমে এই দেহাবশেষ হস্তান্তর করে হামাস। একইদিন ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ ৩০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ গাজায় ফেরত দেয়।

এদিকে হামাসের সশস্ত্র শাখার দাবি, তারা শুক্রবার অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহগুলো হস্তান্তরের আগেই ইসরায়েলের কাছে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানোর প্রস্তাব করেছিল। তবে ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে পুরো দেহ চাওয়ায় তারা অনিশ্চিতভাবে ওই মরদেহগুলো হস্তান্তর করে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েল মানতে চাচ্ছে না, গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, মরদেহ শনাক্তের জন্য ডিএনএ কিট, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ খুঁজে পেতে ভারী সরঞ্জাম নেই। তাদের ধারণা, হামাস ইচ্ছাকৃতভাবে জিম্মিদের মরদেহ আটকে রেখেছে। তাদের এই দাবিকে থামাতেই আমরা দেহগুলো হস্তান্তর করেছি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তেই আমরা বলেছিলাম সব মরদেহ খুঁজে পেতে সময় লাগতে পারে। আমরা কোনো শর্ত লঙ্ঘন করিনি।’

হামাসের হাতে জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারের দাবিতে তেলআবিবে বিক্ষোভ। ছবি: এপি/ইউএনবি

এদিকে শনিবার রাতেই জিম্মিদের মরদেহ ফেরাতে তেলআবিবের রাস্তায় নেমে আসেন তাদের পরিবার ও সমর্থকরা। নিহত তামির আদারের মা ইয়ায়েল আদার বলেন, ‘হামাসের ওই নৃশংস সদস্যরা আমাদের নিয়ে উপহাস করছে। তারা ভুল ব্যক্তির মরদেহ ফিরিয়ে দিয়ে আমাদের আবেগ নিয়ে খেলছে। আমরা যতবার আশায় বুক বাধছি ততবার আমাদের আশাহত করা হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হামাস ১৭ জন জিম্মির দেহাবশেষ ফেরত দিয়েছে। এখনও আরও ১১ জিম্মির মরদেহ গাজায় রয়েছে।

আরও পড়ুন

হামাস কিছুদিন পর পর একজন বা দুইজনের দেহাবশেষ ফেরত দিলেও ইসরায়েল এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলও প্রতি জিম্মির দেহাবশেষের বিনিময়ে ১৫ জন অজ্ঞাত ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল এ পর্যন্ত ২২৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ গাজায় ফিরিয়ে দিয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ফিলস্তিনি বন্দিদের মরদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ। ছবি: এপি/ইউএনবি

সম্প্রতি গাজায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহতের দাবি জানিয়ে উপত্যকায় দফায় দফায় বোমা হামলা ও অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ আরব দেশের নেতারা। যুদ্ধবিরতির তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির সময় ও পদ্ধতি নিয়ে এখনও সুরাহা হয়নি।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি শনিবার এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকলে যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়বে। বাহরাইনের মানামা ডায়ালগ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘গাজার নিরাপত্তা রক্ষায় ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী থাকতে হবে। তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর সহায়তা পাবে।’

‘ইসরায়েল যদি গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে গাজাবাসী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ব্যর্থ হবে। তাদের জন্য ভীতি নয় প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

গাজায় অস্থায়ী আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠন ও মোতায়েনের ক্ষেত্রে কোনো মার্কিন সেনা অংশ নেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শনিবার এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

এছাড়া অনেক দেশই গাজায় অন্তর্বর্তী শাসন প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তারা জাতিসংঘের স্পষ্ট ম্যান্ডেট ছাড়া সেখানে সেনা পাঠাতে রাজি নয়।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad