কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পর ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এখনো নিখোঁজ আছেন ৩০ জনেরও বেশি মানুষ।
কেনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেনের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে মারাকওয়েট ইস্ট এলাকায় ওই ভূমিধস হয়। প্রবল বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওায় তাৎক্ষনিকভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গোটা এলাকা ভুমিধসের ঝুঁকিতে থাকায় নিকটস্থ বাসিন্দাদের আগে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে চাপা পড়া মরদেহগুলো উদ্ধার করে পাশের একটি বিমানঘাঁটিতে রাখা হয়।
বৈরি আবহাওায় শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করলেও রোববার থেকে ফের উদ্ধারকাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কেনিয়ার সরকার।
মুরকোমেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, ভূমিধসের পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০ জনের পরিবার তাদের নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করেছেন। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে অন্য শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মুরকোমেন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাবার ও ত্রাণসামগ্রী সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় হেলিকপ্টারযোগে এসব সামগ্রী পরিবহনের চেষ্টা চলছে।’
উদ্ধার কার্যক্রমের সমন্বয়কারী কেনিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রস জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব নয়। কাদা ও আকস্মিক বন্যার কারণে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজে আরও হেলিকপ্টার মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।
বছরের দ্বিতীয় দফায় বর্ষা হানা দেওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।

এদিকে, কেনিয়া সীমান্তের কাছাকাছি উগান্ডায়ও গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
উগান্ডা রেড ক্রস শনিবার জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলের কাপসোমো গ্রামে নতুন করে আরেকটি ভূমিধস হয়েছে। এসময় একই পরিবারের চারজন মাটিচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া তীব্র বন্যায় বুলামবুলি জেলার নদীতীরবর্তী প্রায় সব গ্রামই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিতে আসতিরি ও সিপি নদীর পানি বেড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে।


