প্রথম জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ

প্রথম জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে আইন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সামাজিক প্রস্তুতি, দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—এই পাঁচটি মাত্রায় দেশের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারের একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে।

ইউনেস্কোর রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট মেথডোলজি অনুযায়ী তৈরি এই প্রতিবেদনকে নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক রোডম্যাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অডিটোরিয়ামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই, ইউনেস্কো এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর যুগে প্রবেশের এই মুহূর্তে প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।’

‘আজকের সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশক বাংলাদেশের প্রশাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে। এই প্রতিবেদন দেখিয়েছে যে দেশ কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে এবং অগ্রগতি ধরে রাখতে কোন ক্ষেত্রগুলোতে দ্রুত বিনিয়োগ প্রয়োজন।’

এআই যেন মানুষের বিচারের বিকল্প না হয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ করে তোলে এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর মতে, জাতীয় এআই নীতি চূড়ান্তকরণে এই প্রতিবেদন একটি শক্তিশালী ভিত্তি দেবে।

ইউনেস্কো বাংলাদেশ প্রধান সুসান ভাইজ বলেন, ‘মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি একই সঙ্গে অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার প্রতিচ্ছবি এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণের রূপরেখা।’

‘তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, বাংলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় মানসম্মত তথ্যভান্ডার তৈরি এবং মেয়েদের এআই শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ডিজিটাল সরকারব্যবস্থায় বাংলাদেশের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মানের এবং সরকারি ডিজিটাল সেবার প্রতি নাগরিকদের আস্থা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে অনিয়মিত ইন্টারনেট সংযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি, শহর–গ্রামের দীর্ঘস্থায়ী ডিজিটাল বৈষম্য এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামোর অভাবকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এআই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এখনও বিকাশের প্রাথমিক ধাপে রয়েছে।

এআই শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাঠামোবদ্ধ কারিকুলাম, নৈতিক এআই প্রশিক্ষণ এবং বিশেষত মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, এটুআই প্রকল্প পরিচালক মোহা. আবদুর রফিক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দপ্তরের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিখাল ক্রেজাসহ আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad