এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া মূল বেতনের ৫ শতাংশ নির্ধারণ করাকে ‘প্রাথমিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ জোটের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন আজিজী। তবে তিনি এই ‘প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান’ করেছেন। তিনি জানান, অন্যান্য দাবি-দাওয়া আদায়ে তাদের আন্দোলন চলবে।
রোববার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘৫% বাড়ি ভাড়ার প্রজ্ঞাপন আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। কিন্তু ২০% বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা ও ৭৫% উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত আমাদের সকল কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
সাংবাদিকদের আজিজী বলেন, ‘আমরা ৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির এই প্রহসনের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করছি।’
তিনি বলেন, ‘তবে আমরা এই প্রজ্ঞাপনকে প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছি এই কারণে যে, সরকারের তরফে একটা প্রতিক্রিয়া অন্তত এসেছে।’
বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ তাদের দাবিকৃত ভাতা বৃদ্ধির আগ পর্যন্ত ভুখা মিছিলসহ শিক্ষকদের পূর্ব ঘোষিত সকল কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিতু মরিয়ম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধিতে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারের বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা নিম্নোক্ত শর্তাদি পালন সাপেক্ষে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) দেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপনে শর্তসমূহে উল্লেখ করা হয়— ‘এই বাড়িভাড়া ভাতা পরবর্তী জাতীয় বেতনস্কেল অনুসারে সমন্বয় করতে হবে; বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা- ২০২১’, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ এবং ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, কৃষি ডিপ্লোমা ও মৎস ডিপ্লোমা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত)’ এবং সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন/আদেশ/পরিপত্র/নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়োগের শর্তগুলো পালন করতে হবে।’
এতে বলা হয়, ‘এই ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা আগের কোনো বকেয়া পাবেন না। অবশ্যই সকল আর্থিক বিধি-বিধান পালন করতে হবে। ভাতা সংক্রান্ত ব্যয়ে ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম দেখা দিলে বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।’
ওই আদেশ আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


