মায়ের দুধের পুষ্টিগুণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শুধু ভিটামিন বা সম্পূরক খাদ্য দিয়ে একটি সুস্থ জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের ভূমিকা অনন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি ভিটামিন বা একটি ফাইল ওষুধ খেয়ে জীবন চলে না। মায়ের দুধ এমন একটি প্রাকৃতিক পুষ্টি, যা শিশুর শরীরের গঠন তৈরি করে এবং এর প্রভাব থাকে দীর্ঘস্থায়ী। জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ বা কলস্ট্রাম খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান বিদ্যমান থাকে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে অনেক মায়ের মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রামীণ নারীরা এখনো দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, কিন্তু শহুরে ও শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে এই প্রবণতা ক্রমশ কমছে।’
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের দুধ এবং এরপর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার দেওয়া উচিত। তিনি পুষ্টিকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, সবকিছু ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়; যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে। পুষ্টি মানেই শুধু শরীর নয়, এটি মেধা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। তাই পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং শিশুর জন্য মায়ের দুধ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি নির্দেশ দেন, পুষ্টি বার্তাগুলো শুধু সেমিনার বা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, পুষ্টিকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অভিভাবকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেও বিশেষ নজর দিতে হবে। ফাস্টফুড নির্ভরতা কমিয়ে শাকসবজি ও সুষম খাদ্য গ্রহণে শিশুদের উৎসাহিত করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে একটি সুস্থ, সবল ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


