পিরোজপুরে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে থাকার সময় এক ব্যক্তিকে নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি এ নিন্দা জানায়। এতে বলা হয়, পিরোজপুরে পুলিশ মেসের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউনুস ফকিরের ওপর ডিবি পুলিশের সদস্যরা নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আসক বলেছে, ১৯ এপ্রিল সমকাল অনলাইনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, জেলা ডিবি পুলিশের ওসির টাকা চুরির সন্দেহে ইউনুস ফকিরকে আটক করা হয়। পরে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মারধর করা হয়েছে, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছে এবং অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ করা হয়েছে। এমনকি তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিবৃতিতে আসক বলেছে, ইউনুস ফকিরের ওপর যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে, তা শুধু মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন নয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভয়াবহ অপপ্রয়োগেরও উদাহরণ।
আসক মনে করে, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বরং দীর্ঘদিনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি ও জবাবদিহির ঘাটতির প্রতিফলন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি চারটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো, নির্যাতনের অভিযোগে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর আওতায় দ্রুত মামলা, গ্রেপ্তার ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা; মো. ইউনুস ফকিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; তার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া; এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মানবাধিকার, আইনি সীমাবদ্ধতা ও পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ জোরদার করে শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলা।
বিবৃতির শেষাংশে আসক বলেছে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি। এ ধরনের নির্মম ও অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


