সচল এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে এমপিওভুক্তির আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকরা। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে এক সপ্তাহ পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা। এমনকি দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে ঈদের পর সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে ‘ডু অর ডাই’ কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
সোমবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এসব ঘোষণা দেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মোর্চা ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের’ নেতারা।
সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মনিমুল হক টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সারাদেশে স্কুল কলেজ মাদ্রাসাসহ সবধরনের নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। তবে সচল প্রতিষ্ঠান তিন হাজারের মতো। সরকার প্রাথমিকভাবে সচল প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তি করবে বলে আমরা আশাবাদী।’
দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালু আছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে সচল প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আবদেন করা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্তি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের স্থগিত আবেদন প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার দাবি জানান সংগঠটির অন্যতম সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন।
এ সময় রাজশাহীর পবা উপজেলার কে এইচ টিকর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিগত সরকার এমপিও আবেদন গ্রহণ করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করে একটি তালিকা করেছিল।’ সেই তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা কলেজের অনার্স শাখার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মো. শরাফৎ হোসেন ১১ বছর বিনা বেতনে পড়ানোর কথা উল্লেখ করে জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের খরচ জোগাড় করেন তিনি।
শরাফৎ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আর্থিক অনিশ্চয়তায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। খুবই মানবেতন জীবনযাপন করছি ভাই। এমপিওটা পেলে পরিবারটা একটু বেঁচে যায়।’
সমাবেশে সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা বলেন, ‘এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার এমপিওর আবেদন থেকে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৭২০টি আবেদনকে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন জারির পরিবর্তে তা আবারো স্থগিত করা হয়েছে। অবিলম্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করা না হলে শিক্ষকরা “ডু অর ডাই” কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ‘সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের’ মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ নাজমুছ সাহাদাত আজাদী, সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মনিমুল হকসহ আরও অনেকে।


