ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ‘মব’ তৈরি করে গণপিটুনির পর এক ছাত্রীকে দিয়ে যৌন নিপীড়নের করা মামলায় ২২ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন সহকারী শিক্ষক শাহ আলম।
বুধবার ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এমরান হোসাইন চৌধুরী শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সকালে কালীগঞ্জের বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আটকে রেখে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় একটি দুর্বৃত্ত চক্র। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হামলাকারীরা তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। থানায় নেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে দুর্বৃত্ত চক্রের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। সাদা কাগজে শিক্ষার্থীর নিজ হাতে লেখা কিন্তু স্বাক্ষরবিহীন ওই চিঠি প্রকাশ পেলে শুরু হয় চরম সমালোচনা। পরে শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
জামিনে মুক্ত হয়ে শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘বিনা অপরাধে মব তৈরি করে আমাকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিল একটি কুচক্রী মহল। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি স্কুলের পুকুর লিজসহ নানা বিষয়ে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিল। আমি তাতে বাঁধা দেওয়াতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়।’
আদালত ও গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতের প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস ছিল এবং আদালত আমার বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার শুরু থেকে কয়েকজন সংবাদকর্মী নিরপেক্ষ থেকে সত্য তথ্য তুলে ধরেছেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
উল্লেখ্য, ঘটনার পর শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর ও অবরুদ্ধ করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে ইতিপূর্বে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।


