চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কাঁচি দিয়ে মা-বাবাকে হত্যার আলোচিত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক ক্ষোভের জেরে একমাত্র ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার আনোয়ারা থানা পুলিশের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে রিমন দাশ গুপ্তের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি কাঁচি দিয়ে প্রথমে মা কল্পনা দাশ গুপ্তকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন তিনি। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশ গুপ্তকেও গলা ও পেটে কাঁচি দিয়ে আঘাত করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনাস্থলে কল্পনা দাশ গুপ্ত মারা যান। গুরুতর আহত স্বপন দাশ গুপ্তকে স্থানীয় লোকজন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারালেন মা-বাবা, আটক ছেলে
ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, নিহত স্বপন দাশ গুপ্তের ভাই তপন দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় নিহত দম্পতির ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত শনিবার দুপুরে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


