মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে বড় বড় শহর খালি করার প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
সোমবার আইএইএর ত্রৈমাসিক বোর্ড সভার শুরুতে তিনি বলেন, কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত লেগে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়লে ‘গুরুতর পরিণতি’ দেখা দিতে পারে, এমনকি বড় শহরের সমান বা তার চেয়েও বিস্তৃত এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় হতাশার কথাও জানান তিনি। আলোচনায় কারিগরি সহায়তা দিতে গ্রোসি উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘কূটনীতি কঠিন, কিন্তু কখনো অসম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে শক্তি প্রয়োগের উপস্থিতি রয়েছে, তবে এটি সবসময়ই সর্বশেষ ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিকল্প হওয়া উচিত।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রভাব তুলে ধরে গ্রোসি বলেন, ইরানসহ অঞ্চলের অনেক দেশ সামরিক হামলার শিকার হয়েছে এবং এসব দেশে কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গবেষণা রিঅ্যাক্টর ও জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা রয়েছে, যা পারমাণবিক নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে চারটি চালু পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর রয়েছে। জর্ডান ও সিরিয়ায় কার্যকর গবেষণা রিঅ্যাক্টর আছে।
‘বাহরাইন, ইরাক, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সৌদি আরবেও বিভিন্ন ধরনের পারমাণবিক প্রয়োগ রয়েছে। ‘সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই,’ যোগ করেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিষয়ে গ্রোসি বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেহরান গবেষণা রিঅ্যাক্টর বা অন্য কোনো জ্বালানি চক্র স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। ইরানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।


