গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর হরিপুর এলাকায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। সেতুর মাত্র চার-পাঁচ শ মিটার দূরে খননযন্ত্র বসিয়ে উত্তোলিত বালু পাইপের মাধ্যমে নিয়ে ফেলা হচ্ছে সংযোগ সড়কের পাশের জমিতে। এতে ৯২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাইবান্ধা-কুড়িগ্রাম সীমানার হরিপুর তিস্তা সেতু উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলামের সহযোগিতায় প্রভাবশালী একটি চক্র আইন লঙ্ঘন করে বালু তুলে বিক্রি করছে। এতে সেতু ও আশপাশের ফসলি জমি হুমকিতে পড়েছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইসমাইল পাগলার ছেলে গ্রাম পুলিশ মোজাহারের নেতৃত্বে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বালুর ব্যবসা চালাচ্ছেন। চরাঞ্চল হওয়ায় তাদের কাজে কেউ বাধা দিতে পারছেন না। এ কাজে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলী বলেন, ‘বালু তোলার কারণে সেতুর সংযোগ রাস্তা ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসন জানার পরও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
প্রশাসনের তৎপরতা সত্ত্বেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। গত ৫ জুলাই চিলমারীর নৌ পুলিশ ড্রেজার বন্ধ করতে গিয়ে একজনকে আটক করে। পরে উত্তোলনকারীদের সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আবার বালু তুলতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি দেখা গেছে, সেতুর উত্তর–পূর্ব পাশে নদীতে বাঁশ ও ড্রামের ওপর বাল্কহেড বসিয়ে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নদীতে প্রকাশ্যে কেউ বালু তুলছে না, বালুর ব্যবসাও করছে না। সরকারিভাবে এলজিইডি হয়তো তুলতে পারে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’
গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, ‘সেতুর আশপাশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। এতে সেতু ও বেরিবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২০১৮ সালের নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয় তিস্তা সেতু নির্মাণের জন্য। চীনের চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেড ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। আগামী ২৫ আগস্ট যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে উদ্বোধনের আগেই এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


