পাবনার হাট-বাজারে উঠেছে জ্যৈষ্ঠের রসালো ফল লিচু। পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেচাকেনাও চলছে জমজমাট। এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় দামেও স্বস্তি মিলেছে। আর পাবনার লিচুর সুনাম থাকায় চলে যাচ্ছে সারাদেশে।
এবার পাবনা জেলায় ৮০০ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
উত্তরবঙ্গের মধ্যে পাইকারি লিচু কেনাবেচার অন্যতম বড় হাট পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আওতাপাড়া হাট। প্রতিদিন ভোরে পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে লিচু চাষিরা তাদের লিচু নিয়ে এই হাটে আসেন। আর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসেন পাইকাররা।
তারা চাষিদের সাথে দরদাম করে লিচু কেনেন। এরপর ঝুড়িতে লিচু সাজিয়ে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যান ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, নারায়নগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায়।

শনিবার সকালে আওতাপাড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, চাটমোহর থেকে লিচু চাষিরা ডালি ভরে লিচু নিয়ে বিক্রি করতে এসেছেন। পাইকাররা এসে তাদের সাথে দরদাম করছেন। এভাবেই চলছে লিচু পাইকারি কেনাবেচা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে জমজমাট হয়ে উঠেছে লিচুর হাট।
ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগে বাজারে উঠেছে দেশী জাতের লিচু। বর্তমানে বোম্বাই জাতের লিচুও বিক্রি হচ্ছে। বোম্বাই জাতের লিচু স্বাদে অনন্য। তাই এই লিচুর চাহিদা বেশি। বেশিদিন বাজারে পাওয়া যায় এই লিচু। তাই পাইকার বা খুচরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে বোম্বাই লিচু।
হাটে লিচু বিক্রি করতে এসেছেন সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের চাষি মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় আর প্রচুর মুকুল আসায় লিচুর ফলনও হয়েছে ভালো। আর ফলন বেশি হওয়ায় এবার লিচুর দাম কম। প্রকারভেদে প্রতি হাজার লিচু এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
আরেক চাষি ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া গ্রামের আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি দশ হাজার লিচু নিয়ে এসেছি। প্রতি হাজারের দাম বলছে দেড় হাজার টাকা। এখনও বিক্রি করিনি। দেখা যাক কত টাকা বিক্রি করতে পারি। তবে এবার দাম কম, মানুষ লিচু কিনে স্বস্তি পাচ্ছে।’

ঢাকা থেকে আসা পাইকার ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, ‘এবার লিচুর হাটে প্রচুর লিচুর আমদানি হচ্ছে। কেনাবেচাও জমজমাট চলছে। আমরা লিচু কিনে এবার শান্তি পাচ্ছি। লিচুর মানভেদে লিচু কেনাবেচা হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো যে বোম্বাই লিচু সেটা প্রতি হাজার কিনছি দুই হাজার টাকায়। আর তার নিচের মানেরটা এক হাজার থেকে ১৫০০ টাকায় কিনছি।’
আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখান থেকে লিচু কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে খুচরা বিক্রি করি। যে লিচু দুই হাজার টাকা দরে কিনেছি, সেটা খুচরা বিক্রি হবে আড়াই হাজার টাকা থেকে ২৮শ’ টাকায়। এবারের লিচুর ফলন যেমন ভালো, মানও তেমন ভালো হয়েছে।’
পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের পাশে খুচরা বাজারে লিচু বিক্রি হচ্ছে। লিচু কিনতে আসা মাসুদ রানা বলেন, ‘মৌসুমের রসালো ফল লিচু। এটা না খেয়ে থাকা যায় না। বাড়িতে বউ বাচ্চারা আছে। এটার স্বাদ নিতে লিচু কিনছি। একশ’ লিচু কিনলাম ২৮০ টাকায়।’

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক জানান, এবার পাবনায় লিচুর খুব ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ সবসময় চাষিদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে গেছে। আবহাওয়াও অনুকূলে ছিল। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না। এবার চাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ক্রেতারাও লিচু কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, পাবনায় এ বছর ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার মেট্টিকটন। তবে ফলন ভাল হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫০ হাজার মেট্টিকটন হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের। তাদের হিসেবে এ বছর পাবনায় ৮০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে।


