নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিন দিন আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর এই পদ গ্রহণ করেন তিনি।
পুলিশ মুখপাত্র বিনোদ ঘিমির বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, তিনি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারে থাকবে একটি ছোট মন্ত্রিসভা, যা রাতেই প্রথম বৈঠক করবে।
খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ২১ জন বিক্ষোভকারী এবং তিনজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
এর আগে, নেপালের ‘জেন-জি’ আন্দোলনকারীরা, রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাউডেল এবং সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনায় মতৈক্য হওয়ায় কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্প্রতি দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ‘জেন-জি’ আন্দোলন শুরু হয়। নিহতদের সহযোদ্ধারা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং একাধিক মন্ত্রী।
তবুও কাঠমান্ডুর পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। সরকারি স্থাপনা, সংসদ ভবন এবং দেশের প্রভাবশালী নেতাদের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়। উত্তেজিত জনগণকে শান্ত করতে সেনাবাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করে।
অলির পদত্যাগের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়ে আন্দোলনকারীরা দ্বিধাবিভক্ত হন। অনেকেই সুশীলা কার্কির পক্ষ নেন, তবে একটি অংশ বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখা কুলমান ঘিসিংকে সমর্থন করেন। শেষ পর্যন্ত কার্কির পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
সুশীলা কার্কি ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নেপালের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান এবং জেন-জেনারেশনের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেছেন।


