কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ফারুক ইব্রাহিম নামে এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। আটক ফারুক ইব্রাহিম ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মরিচ্যা বাজার এলাকায় তার বাসা ঘেরাও করে স্থানীয়রা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করে আসছিলেন। সর্বশেষ রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে পাঠদানকালে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানিমূলক আচরণ করেন।
এক শিক্ষার্থীর চাচা ফারুক সিকদার বলেন, ‘শিক্ষক ফারুক ইব্রাহিম একাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত যৌন হয়রানি করে আসছিলেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে জনতা তার বাসা ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
স্থানীয় একাধিক অভিভাবকের দাবি, রোববার বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের পদ্মা শাখায় পাঠদানের সময় ওই শিক্ষক নানাভাবে অশালীন ও হয়রানিমূলক আচরণ করেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
ঘটনার পর মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কয়েক দফা বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


