গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে একটি বড় ময়লার ভাগাড় ধসে আশপাশের তাঁবু ও ঝুপড়িঘরের ওপর পড়ে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, শহরের দার-এস-সালাম এলাকায় এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।
সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাতভর ভারী বৃষ্টির পর স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টার দিকে ময়লার স্তূপটি ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়াদের উদ্ধারে সামরিক বাহিনীসহ বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী কাজ করছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে এক নারী জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তার পাঁচ সন্তান নিহত হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীদের খননযন্ত্র দিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ আবর্জনার স্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করতে দেখা যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হন।
গিনির প্রধানমন্ত্রী মামাদু উরি বাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং উদ্ধার অভিযান তদারক করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে স্থানীয় এলাকার নেতা লানসিনে সিলা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, তিনি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যেগুলো মর্গে নেওয়া হয়েছে।’
এদিকে শহরের সবচেয়ে বড় এই উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড়টি রোববার বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল বলে জানান সামরিক প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের স্যানিটেশন কর্মকর্তা লে. কর্নেল বালদে মামাদু বাইলোর।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাগাড়ের আশপাশে বসবাসকারী লোকজনকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে অনেকে এলাকা ছেড়ে গেলেও দুর্ঘটনার সময় আরও অনেক মানুষ সেখানে অবস্থান করছিলেন।
২০১৭ সালেও একই স্থানে ভূমিধসে ১০ জন নিহত হয়েছিল। গিনি খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বক্সাইটের মজুত রয়েছে। এছাড়া লৌহ আকরিক, স্বর্ণ, হীরা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদেরও বিশাল মজুত রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যার ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।


