মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরির পক্ষে পোস্টার লাগানোর সময় গ্রেপ্তার ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদালয়ের এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। আসামির নাম আমজাদ হোসেন বুখারী।
মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন মো. সেফাতুল্লাহ রিমান্ডের আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. রুকনুজ্জামান রিমান্ডের তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সাইফুল ইসলাম গত ৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানার মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে জানানো হয়, এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর আসামি আমজাদ হোসেন বুখারিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় পল্টন মডেল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ মামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে। এজন্য আসামির তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন মঙ্গলবার ধার্য করেন।
শুনানির সময় আমজাদ হোসেন বুখারীকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামির পক্ষে আইনজীবী ইলা নাজনীন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন, ‘এ আসামি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানে না। সে ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থী। সামনে পরীক্ষা। রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি।’ প্রয়োজনে আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করারও অনুরোধ জানান আসামির পক্ষে আইনজীবী।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, গত ৭ মার্চ দুপুর ২টার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে অজ্ঞাতনামা ২ হাজারের বেশি মানুষ মার্চ ফর খেলাফত, হিযবুত তাহরি, উলাইয়াহ্ বাংলাদেশ ব্যানারে মিছিল বের করে পল্টন মোড়ের দিকে যান।
তখন পুলিশ তাদের বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে তারা সামনে এগিয়ে রাস্তার ওপর সরকারবিরোধী, দেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করার প্রয়াসে পতাকা, ব্যানার, লাঠিসোটা হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এ সময় আসামিরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল মারতে থাকেন বলে উল্লেখ করা হয় বিবরণীতে।
এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) রাসেল মিয়া ৮ মার্চ সংশ্লিষ্ট থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।


