নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হতে বাকি আর মাত্র ১২ মিনিট। স্কোরবোর্ডে বেলজিয়াম পিছিয়ে ২-০ গোলে। গ্যালারিতে তখন সেনেগালের দর্শকদের আগাম জয়ের বুনো উল্লাস। রূপকথার এক জয়ের প্রহর গুনছিল আফ্রিকানরা। কিন্তু সিয়াটল স্টেডিয়ামকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়ে বেলজিয়াম যা করল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য, রূপকথার চেয়েও সুন্দর। মাত্র তিন মিনিটের ঝড়ে জোড়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনল রুডি গার্সিয়ার দল। ২-২ গোলের এই অতিমানবীয় ড্রয়ের পর শেষ ৩২-এর এই ব্লকবাস্টার লড়াই এখন গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারার গোলে সেনেগাল এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেছিলেন ইসমাইল সার। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সেনেগালের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে বেলজিয়ামের হয়ে সমতাসূচক গোল দুটি করেন রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমানস।
ম্যাচের নবম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের জোরাল শট সেনেগাল গোলকিপার মোরি দিয়াও ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দিলে লিড পাওয়া হয়নি বেলজিয়ামের। ১৪ মিনিটে সেনেগালের ইসমাইল সারের ফিরতি শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে রক্ষা পায় ইউরোপের দেশটি।
তবে আফ্রিকানদের বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ২৫ মিনিটে সাদিও মানের ক্রসের পর প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও, দ্বিতীয় দফায় নিখুঁত শটে সেনেগালকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। সান্ডারল্যান্ডের এই মিডফিল্ডারের এটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ গোল।
আক্রমণের সময় ৪-৩-৩ আর রক্ষণের সময় ৪-৫-১ ফর্মেশনের এক জটিল ধাঁধায় বেলজিয়ামকে আটকে ফেলেছিল সেনেগাল। বেলজিয়ামের দুই প্রধান অস্ত্র জেরেমি ডোকু ও ট্রোসার্ড প্রথমার্ধে চেনা ছন্দে ছিলেন না। ৪৫ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের পাস থেকে ম্যাক্সিম ডে কুইপারের বুলেট গতির শট সেনেগাল কিপার কর্নারের বিনিময়ে ঠেকালে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম।
বিরতির পর রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় বেলজিয়াম। তবে ৫১ মিনিটে দিয়ারার শট পোস্টে লাগার কয়েক সেকেন্ড পরেই উল্লাসে মাতে সেনেগাল। মুসা নিয়াখাতের লম্বা পাস থেকে বেলজিয়াম ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডন মেখেলেকে গতিতে পরাস্ত করে, বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থিবো কর্তোয়াকে বোকা বানান ইসমাইল সার। হাফ-ভলিতে বল জালে জড়িয়ে দলকে ২-০ তে এগিয়ে নেন তেরাঙ্গার সিংহরা।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া বেলজিয়াম যখন একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করছিল, তখনই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে ৮৬ মিনিটে। সাদিও মানে বেলজিয়াম কিপার কর্তোয়াকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। আর সেই মিসের চড়া মূল্য চুকাতে হয় সেনেগালকে। ঠিক পরের কাউন্টার অ্যাটাকে বক্সে ক্রস পেয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামকে উল্লাসে ভাসান রোমেলু লুকাকু।
এরপরের দৃশ্যপট স্রেফ মহানাটক! ঠিক তিন মিনিট পর, ৮৯ মিনিটে ট্রোসার্ডের ভাসানো উঁচু ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সেনেগাল কিপারকে পরাস্ত করেন ইউরি টিলেমানস। ফাঁকা জালে বল জড়াতেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম! ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ হওয়ায় এখন অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।


