নাটোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে (আউটসোর্সিং) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলার পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গ্রেপ্তাররা হলেন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত, অনিল ও প্রাঙ্গণ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার নিজের অসুস্থ মেয়েকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করান ওই নারী। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায় সুইপার অমিত। পরে তাকে হাসপাতালের ৬ তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে অমিতের দুই সহযোগী অনিল ও প্রাঙ্গণ। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টাও করে তারা।
এদিকে রাত ২টার দিকে শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা ওই শিশুকে চার ঘণ্টা একা দেখে তার মাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আনসার সদস্যদের সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছয় তলার সিঁড়িঘর থেকে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আনসার সদস্যরা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে গেলে সেখানে মোবাইল ফোনে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী নারী ঘটনার বর্ণনা দেন। অভিযুক্ত তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অপরাধ স্বীকার করে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, জবানবন্দি নেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয়। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশ হলে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।


